মেয়েদের যে ৮টি ভুলের কারণে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি জানুন প্রতিরোধের উপায়

মেয়েদের যে ৮টি ভুলের কারণে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি | জানুন প্রতিরোধের উপায়

বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ক্যান্সারের মধ্যে স্তন ক্যান্সার অন্যতম। প্রতি বছর হাজার হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাস ও অসচেতনতার কারণেই এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। আজ আমরা জানবো মেয়েদের এমন ৮টি ভুল সম্পর্কে, যেগুলো এড়িয়ে চললে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

১. ধূমপান করা

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত ধূমপান করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

২. অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান

যেসব নারী নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা বেশি। অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৩. ব্যায়াম না করা ও অলস জীবনযাপন

শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে চর্বি জমে যায়। এতে ওজন বাড়ে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

৪. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা

বিশেষ করে মেনোপজের পর অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমলে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি তৈরি হয়, যা ক্যান্সারের জন্য ক্ষতিকর।

৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৬. স্তন্যদান না করা

যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না বা অল্প সময়ের জন্য খাওয়ান, তাদের স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা বেশি। স্তন্যদান স্তনের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

৭. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হরমোন ওষুধ ব্যবহার

অনেকে নিজের ইচ্ছামতো জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা হরমোনজাত ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন। এতে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা

অনেক নারী লজ্জা বা ভয়ের কারণে স্তন পরীক্ষা করাতে চান না। কিন্তু নিয়মিত সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চেকআপ করলে রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব হয়।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

✔ ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন

✔ নিয়মিত ব্যায়াম করা

✔ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

✔ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

✔ সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো

✔ বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

উপসংহার

স্তন ক্যান্সার একটি ভয়ংকর রোগ হলেও সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হোন, নিয়মিত চেকআপ করুন এবং এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন। আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে।
 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url